সমাজের আলো।। : ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেলারুশ, তিউনিশিয়া, সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে সরকারি পর্যায়ে (জি টু জি) চুক্তির আওতায় সার আমদানি করে। এসব দেশ থেকে সার আনতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই পথ ব্যবহার করতে না পারায় সার আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে একটা প্রবল সংকট দেখা দিল কয়েকটা জায়গায়। একটা হলো ইলেকট্রিসিটি, একটা হলো গ্যাস, তেল এবং ফার্টিলাইজার। এগুলো জনগণের সবচেয়ে প্রয়োজনীয়, প্রত্যেকের নিত্যদিনের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, এই সংকট উত্তরণের জন্য সরকার যা কিছু করা সম্ভব, প্রায় সবকিছু করার চেষ্টা করেছে।
সার আমদানির বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চারটা জায়গা একটা হলো বেলারুশ, একটা হলো তিউনিশিয়া, একটা হলো সৌদি আরব আরেকটা হলো মরক্কো। এই চারটা দেশ থেকে যদি আমাদের দেশে সার আনতে হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালী আমাকে ক্রস করে সার আনতে হবে।
তিনি বলেন, এই চার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জি টু জি বা গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় সার আনতে গেলে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথে সার আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্নভাবে সার ও গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। যে গ্যাস ১০ ডলারে কেনা হতো, সেটি ২৭ ডলার পর্যন্ত দামে কিনতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তাও মানুষের এই সংকট যাতে মোকাবিলা হয়, সেই কারণে।
তেল আমদানির প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানি করতে হয়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে সেই তেল আমদানিতেও সংকট তৈরি হয়েছে। এরপরও সরকার প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বিভিন্নভাবে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে উৎসাহ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। যারা নিজেদের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করবেন, তাদের সোলার সিস্টেমের ওপর কর বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও তেল প্রয়োজন হয়। আবার তেল-গ্যাস আমদানি করতে হলে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা পূরণে সোলার কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে যদি আমরা সোলার ডেভেলপ ঘটাতে পারি, আমাদের এই সংকট ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা সমাধান করতে সক্ষম হবো।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা জেলার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম এবং সনাক সাতক্ষীরার সভাপতি তৈয়ব হাসান সামছুজ্জামান প্রমূখ।

