নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তাঁরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না মর্মে মুচলেকা দেন।
ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ১০ বছরের শিক্ষার্থীর বিয়ে। কয়েক দিন আগে ওই শিশুর বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। বিয়েতে বরের বয়স ১৭ বছর। বিষয়টি গোপন রাখা হলেও পরে তা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়ায় ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয় গত বৃহস্পতিবার। ওই কিশোরী ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিয়ের আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শিশুবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা সাকিবুর রহমান বাবলা গত বৃহস্পতিবার ঘটনাগুলোর বিষয়ে জানতে পেরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিশুবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তাঁদের পরামর্শ দেন।
পরবর্তী সময়ে রোববার অফিস চলাকালে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এবং বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে তাঁরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করে নিজেদের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। এ সময় নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, শিশু বিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা, সংশ্লিষ্ট পরিবারের স্বজন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। শিশুবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

