সমাজের আলো।। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীর বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের খাঁরহাট গ্রামে এ বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ২৫ অক্টোবর জেলা বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রী বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার জন্মনিবন্ধন সনদে জন্মতারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১০। সে হিসাবে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর ১১ মাস। শিশুবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা বলেন, ২০১৫ সালে কালীগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এমন অবস্থায় শিশুবিবাহের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের নির্দেশে কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আর্ণা চক্রবর্তী ওই ছাত্রীর পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ডেকে পাঠান। বাল্যবিবাহসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে অবহিত করার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ সময় শিশুটির বাবা শেখ ইমান আলী মুচলেকা দেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওই বিয়ের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিশুটির অভিভাবক ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

