সমাজের আলো।।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ১৬ বছরের বেশি বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এ উপলক্ষে প্রায় ৫০০ অতিথিকে দাওয়াত করে ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযানের খবর পেয়ে কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যান তার বাবা-মা। বরযাত্রীবাহী গাড়িও মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর চাচাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবর পান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় গরু ব্যবসায়ী বজলুর রহমানের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে দুপুর দুইটার দিকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তিন প্রতিনিধি রাজিবুল ইসলাম, রুপা ঘোষ ও সজীব সরদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, নগরঘাটা ইউনিয়নের একজন সাবেক চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৫০০ অতিথি বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করছেন।

এ সময় অভিযানে যাওয়া প্রতিনিধিদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার, পাটকেলঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন।

অভিযানের খবর পেয়ে কিশোরীকে নিয়ে তার বাবা-মা পালিয়ে যান। অন্যদিকে, বরযাত্রীবাহী গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়।

এ ঘটনায় কিশোরীর চাচা মো. মোনজেদ সরদার নিজের অপরাধ স্বীকার করে মুচলেকা দেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. শাহেদ হোসেন তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ মামলায় প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, মেয়েটির অভিভাবকেরা তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কিশোরীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ের উদ্যোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অভিযানের সময় জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান ও তরুণ প্রতিরোধকর্মী হৃদয় মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

হেলমেট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

অভিযানের সময় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মী রাজিবুল ইসলাম ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক সজীব সরদারের কাছ থেকে দুটি হেলমেট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে মেয়েপক্ষ হেলমেট দুটি ফেরত দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সদরে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিয়ের অভিযোগ

এদিকে, একই দিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার করবী সুলতানা। সেখানে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তাঁদের আগামী রোববার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *