ফজলুল হক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক পীরে কামেল হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তিনি সপরিবারে মাজার জিয়ারত করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টায় নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের দ্বিতীয় তলার কনফারেন্স রুমে পীরে কামেলের জীবন, কর্ম ও অবদান নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন।
আলোচনা সভায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)এর শিক্ষা বিস্তার, মানবকল্যাণ, আধ্যাত্মিক দর্শন ও সমাজ সংস্কারে অসামান্য অবদান তুলে ধরা হয়। তাঁর কর্মময় জীবন, মানবসেবা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ পীরে কামেলের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শোনেন এবং তাঁর আদর্শ ও অবদানের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি মাজার প্রাঙ্গণের মনোরম পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিজেও বই পড়ে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ১৮৭৩ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, লেখক, সুফি সাধক ও সমাজ সংস্কারক। শিক্ষা বিস্তার, মানবসেবা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান স্মরণীয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ১৯৫৮ সাল থেকে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নলতায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সফরসঙ্গী তাঁর স্বামী ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার, নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পাড়, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. নজরুল ইসলাম, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. এনামুল হক, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

