সমাজের আলো
।
কয়েক দিন আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ভারতে গিয়েছিলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫)। বুধবার সন্ধ্যার পর স্বজনেরা জানতে পারেন, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন তিনি। এরপর থেকেই স্বজনদের চোখে-মুখে শোক আর উৎকণ্ঠা কখন দেশে ফিরবে প্রিয় মানুষটির মরদেহ।
শুক্রবার সকালে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। কেউ নীরবে বসে আছেন, কেউ স্মৃতিচারণা করছেন। বড় ভাই সাহেব আলী সরদার বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন কলকাতায়। তার একটাই অপেক্ষা, ভাইয়ের মরদেহটি যেন দ্রুত দেশে আনা হয়।
প্রতিবেশী নাজমুল হুদা বলেন, সাজু অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার এমন অপঘাতে মৃত্যু গ্রামের মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
এই অগ্নিকাণ্ডে সাজুর পাশাপাশি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারও নিহত হয়েছেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ওই হোটেলে অবস্থানকালে তিনি অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন। তাঁর বাড়ি বর্তমানে তালাবদ্ধ।
কলকাতার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ জানান, সাজুর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন কাজ করছে। জেলা প্রশাসনও বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তবে রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাজুর বাড়ির উঠানে এখনো পড়ে আছে নতুন ঘর তৈরির ইট। স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন, প্রিয় মানুষটি ফিরবেন, তবে জীবিত নয়, শেষবারের মতো নিথর দেহ হয়ে।

