লিংকন আসলাম,আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বিদ্যমান সেবাসমূহের ম্যাপিং এবং প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের জন্য কার্যকর রেফারাল পথ চিহ্নিত ও সুসংহত করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের আয়োজনে আশাশুনি প্রকল্প কার্যালয়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উপজেলা সমন্বয়কারী দীপ রঞ্জন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সেবা প্রকল্পের অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সোবাহান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মন, একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ. কে. এম. মাহবুবুল হক, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকাশ হোসেন সহ বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বার্ষিক, ESDO, আইডিয়াল, ব্র্যাক ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের আওতাভুক্ত শিশু, কিশোর-কিশোরী ও যুবকদের জন্য বিদ্যমান সরকারি-বেসরকারি সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।আলোচনায় ‘নতুন কুড়ি’ কার্যক্রমে শিশু ও যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ঋণপ্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং প্রকল্পের আওতাভুক্ত উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তিতে সহায়তা করার বিষয়ে আলোচনা হয়।এছাড়া চলমান রক্তদান কর্মসূচি আরও বেগবান ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা কামনা করা হয়। শিশু ও যুবকদের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে চারা গাছ সরবরাহ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য সরকারি পর্যায়ে বরাদ্দের উদ্যোগ, এবং কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যাপারেও অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করেন। আশাশুনির তীব্র পানি সংকটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে শিশুবান্ধব বাজেট বৃদ্ধি এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, উপকারভোগীদের কাঁকড়া চাষে বিনা শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন যুব ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠনে খেলার উপকরণ সরবরাহ ও বৃদ্ধি করার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও রেফারাল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুব ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান সেবাগুলো আরও সহজে এবং দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

