যশোর প্রতিনিধি
যশোরের অভিশাপ ভবদহ অঞ্চলে আবারও চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে যশোর ও খুলনা জেলার ৫টি উপজেলার শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি’। সংগঠনের উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ ও সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পালের নেতৃত্বে আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানিসম্পদ উপদেষ্টা সরেজমিনে এসে আমডাঙ্গা খাল প্রশস্থকরণ ও সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারধার আধারে পলি ব্যবস্থাপনা) চালুর ৩টি মূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড চরম দীর্ঘসূত্রিতা ও গাফিলতি করেছে। দুই বছর আগে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নানা অজুহাতে ও রহস্যজনকভাবে কাজ আটকে আছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৮১.৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হলেও তা অসমাপ্ত রয়েছে। খর্নিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নির্মিত বাঁধের কারণে প্রায় ৭ কিলোমিটার নদী পলিতে ভরাট হয়ে গেছে।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, জাতীয় কর্মশালায় আইডব্লিউএম-এর জরিপ অনুযায়ী বিভিন্ন বিলে টিআরএম চালুর সিদ্ধান্ত হলেও তার বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এসব কারণে এ বছর আবারো জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে ভবদহ অঞ্চলে।
স্মারকলিপিতে অবিলম্বে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কাজ শেষ করা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, খর্নিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশের আড় বাঁধ অপসারণ, আইডব্লিউএম-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী নদী খনন ও টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একইসাথে পানিবন্দী মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা দিতে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

