লিংকন আসলাম, আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে মাড়িয়ালা হাই স্কুলের সামনের সড়ক নির্মান কাজ কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে সাব ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর ও কাজে ব্যাপক গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক দফা সময় বাড়িয়েও অর্ধেক কাজ এখনো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস হতে মহিষকুড় জিসি ভায়া মাড়িয়ালা খেয়াঘাট সড়কের ৩৫০৫ (মাড়িয়ালা) হতে ৪৪১০ (মাড়িয়ালা মোড়) পর্যন্ত ৯০৫ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। মেসার্স করিম কনস্ট্রাকশন (স্বত্ত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন) কাজটি পান। কাজের চুক্তিমূল্য ৮৮ লক্ষ ২৭ হাজার ৫৫৮ টাকা। কাজ শুরুর কথা ছিল ১৩/১/২০২৬ তারিখে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮/৪/২৬ তারিখে। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে যথা সময়ে কাজ শুরু করেননি। এক পর্যায়ে মূল ঠিকাদার কাজটি সাব কন্ট্রাক্টর সাতক্ষীরার আবুল হোসেনের কাছে দেন। সাব ঠিকাদারের কাছে কাজ দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদার আবুল হোসেন অজ্ঞাত কারনে কাজে খুব ধীরগতি অবলম্বন করেন। নির্দিষ্ট সময়ে রাস্তা খোড়াখুড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সড়কের কাজে পথচারী ও যানবাহন চরাচলের ন্যুনতম ব্যবস্থা রেখে কাজ করার নিয়ম থাকলেও এৎানে তা করা হয়নি। ফলে সড়কের আওতায় থাকা কয়েকটি গ্রামের মানুষ, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা যানবাহন দূরে থাক পায়ে হেটে চলাচল করতে হিমশিম খেয়েছেন। সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কাজে ধীরগতির কারনে জনভোগান্তি চরম আকার ধারন করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জন প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবী করেন। শিক্ষকসহ এলাকার সচেতন মহল জাতীয় সংসদ সদস্যের কাছে প্রতিকার চেয়ে মৌখিক আবেদন জানান।সুচতুর ঠিকাদার সময় বাড়াতে দৌড় ঝাঁপ শুরু করলে কর্তৃপক্ষ ৩/৫/২৬ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেন। কিন্তু না সময়ের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কাজ কখনো বন্ধ রাখা, কখনো লোক দেখানো কাজ করা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে বর্ধিত সময়ও অতিক্রান্ত হয়ে যায়। আবার একদিন কাজ হলে দুদিন বন্ধ রেখে তামাশা চালাতে থাকে এবং কোন রকমে রাস্তায় বালি ফেলানোর কাজ করা হয় বলে ভুক্তভোগি এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। সচেতন মহল অভিযোগ করেন, কাজে যে বালি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেও সরকারি নির্দেশনা নিয়ম নীতি অমান্য করে ভূ-গর্ভস্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বালি ফেলানোয় জনভোগান্তি কিছুটা কমলেও বর্ধিত সময়ের পরে আরও প্রায় ৩ মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৪৫ দিন কাজ বন্ধ রাখা হয়, তবে পুনরায় সময় বাড়ানোর কোন খবর পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে মূল ঠিকাদারের সাথে যোহাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাব ঠিকাদার আবুল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি কাজের দায়িত্ববোধে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে নালিশ করেন। সেখানেই জবাব পাবেন। আমরা জায়গা ঠিক রেখেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব ও উপ সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার জানান, সড়কে ঢাল বা পাড় সংরক্ষণে প্যালিসেডিং ও সড়কে বালি ফেলানো হয়েছে। এখনো ম্যাকাডাম ও কার্পেটিং এর কাজ পুরোপুরি বাকি রয়েছে। তাছাড়া রাস্তার পাশে মাটির কাজও করতে হবে। কাজে ধীর গতি ও নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও কাজ অর্ধেকাংশ না হওয়ায় ঠিকাদারকে তাগাদা পত্র দেওয়া হয়েছিল। কাজের ঠিকাদার কে? এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, আমি ঠিকাদার হিসাবে আবুল হোসেনকে পেয়েছি, অন্য কাউকে দেখিনি।
নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কাজের খোঁজ খবর নেব, কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *