সমাজেরব আলো। সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১নং আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করেছে এসআরবির-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্প।
এসআরবি-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল অদ্য ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং স,তারিখ, রাত ১১ ঘটিকার ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে চাঞ্চল্যকর শামীম হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ১নং আসামি *১। মোঃ ফজলুল হক আমিনী (৪৫), পিতা: ক্বারী রুহুল আমিন, সাং: দক্ষিণ পারুলিয়া, থানা: দেবহাটা, জেলা: সাতক্ষীরাকে গ্রেফতার করে।
জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ রোজ সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য আছে এমন অভিযোগ উঠলে এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে ভিকটিম শামীমের বাড়িতে হামলা চালায়। ভিকটিম শামীম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পরদিন ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বাজারে এক পল্লি চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় এক দল লোক চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে মারধর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। একই তারিখ রাত অনুমান ২০:৩০ ঘটিকার সময় ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা করে। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান। উক্ত ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ, কোম্পানি কমান্ডার, সিপিসি-১, সাতক্ষীরা জানান, সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে এসআরবি-৬ এর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

