সমাজের আলো।। জুলাই বিপ্লব, শেখ হাসিনার বিদায়, মহম্মদ ইউনুসের ক্ষমতায় আসা। এই ঘটনা পরম্পরা কি পূর্ব পরিকল্পিত? বারবার এমন দাবি করেছেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আওয়ামি লিগ। এবার সেই বক্তব্যে কতকটা সিলমোহর পড়ল! সহিংস বিক্ষোভকারীদের চাপে হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগেই, মহম্মদ ইউনুসের মসনদে বসার বিষয়টি পাকা হয়ে গিয়েছিল। আন্দোলনকারী ছাত্রদল এবং ইউনুসের মধ্যে সংযোগসেতু হিসাবে কাজ করেছিলেন এএফপির ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক বিভাগের সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির।বুধবার একটি ফেসবুক পোস্টে গোটা বিষয়টি খোলসা করেছেন ইউনুস আমলের সংবাদ সচিব হিসাবে কাজ করা শফিকুল আলম। সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সেই ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আন্দোলনকারীদের একজন “সেতু-নির্মাতা”র প্রয়োজন ছিল। এএফপি-র ফ্যাক্ট-চেক বিভাগে তাঁর সহকর্মী কদরুদ্দিন শিশির “সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন।”শফিকুল আরও জানান, এএফপির ঢাকা ব্যুরোতে তার ডেস্কের ঠিক পাশেই বসে কদরুদ্দীন শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সেতু নির্মাণের কাজটি করেছিলেন। বিষয়টি হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি জানতেন। ছাত্রনেতাদের পক্ষে প্রথমবার যোগাযোগ স্থাপন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মূল কাজটি শিশির নিজেই সম্পন্ন করেছিলেন বলেই জানিয়েছেন শফিকুল।
জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভের শুরুতে ছিল শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন কোটা-বিরোধী আন্দোলন। পরবর্তীকালে যেটি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ আন্দোলনে পরিণত হয়। যদিও ক্রমশ এমন সব প্রমাণ সামনে আসছে, যাতে মনে হতে পারে— হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়তো ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এক পরিকল্পিত অভিযান’। উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ যে বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন হাসিনা, সেই বিক্ষোভে সেনাকর্তা ও ইসলামপন্থীদের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি একটি মহলের। এখন প্রশ্ন উঠছে, ‘ষড়যন্ত্র’ যত বেশি করে প্রকাশ্যে আসছে, সাধারণ মানুষ যত বেশি করি রাজনৈতিক অভিসন্ধীর বিষয়টি জানতে পারছেন, ততই কি হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনাও বাড়ছে? উত্তর দেবে সময়।

