যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরের মালোপাড়া এলাকায় চুরি করে পালাতে গিয়ে পড়ে আহত স্বাধীন (১৮) মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নিহত স্বাধীন শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার টিপু হোসেনের ছেলে।
তবে স্বাধীনকে মারধর করার অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চুরির চেষ্টা করে পালানোর সময় উঁচু জায়গা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,গত শনিবার রাতে বারান্দী মালোপাড়া মন্দিরের আশপাশে একটি বাড়িতে স্বাধীনসহ কয়েকজন চুরির চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুরু করলে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্বাধীন উঁচু জায়গা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান।
পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর তাঁর মাথায় ২৬টি সেলাই দিতে হয়েছিল।
স্বাধীনের দাদি সেলিনা বেগমের অভিযোগ, মালোপাড়ার কয়েকজন যুবক প্রথমে স্বাধীনকে মারধর করেন। পরে সেখানে লোকজন জড়ো করে তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্বাধীনের বাবা টিপু হোসেন অভিযোগ করেন, ছোট কসাই, শহিদুল ও উজ্জ্বলসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে মারধর করে হত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্বাধীনের মরদেহ যশোরে আনার পর ময়নাতদন্ত শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, নারকেলগাছ থেকে পড়ে এক যুবকের আহত হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

