ফজলুল হক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের গড়ুইমহল শেখপাড়া গ্রামে নাম বিকৃত করে ডাকাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে গিয়ে এক গর্ভবতী নারীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা এবং তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।‌স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের গড়িমহাল শেখপাড়া গ্রামে নাম বিকৃত করে ডাকাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় মৃত শেখ আরশাদের ছেলে শেখ শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার শেখ জহিরুল ইসলামের ছেলে হাফিজুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেটি মারামারিতে রূপ নেয়।‌এদিকে, একই বিরোধের জেরে রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গড়ুইমহল শেখপাড়া এলাকায় রতনপুর তারকনাথ বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাব্বিরকে হাফিজুর রহমান চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সাব্বিরের সহপাঠী ও স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।‌পরে হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে থানার এসআই মতিন বিশ্বাস ঘটনাস্থলে তদন্তে যান।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের সময় এসআই মতিন বিশ্বাস স্থানীয় শেখ সোহেলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী সালমা খাতুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে সালমা খাতুনের গালে চড় মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সালমা খাতুন দুই সন্তানের জননী এবং বর্তমানে যমজ সন্তানের গর্ভবতী। তাঁর অভিযোগ, সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসায় পুলিশের এমন আচরণে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।

সালমা খাতুনের স্বামী শেখ সোহেল অভিযোগ করে বলেন, এসআই মতিন বিশ্বাস তাঁকে গাঁজাসংক্রান্ত মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান শেখ সোহেল।
শেখ সোহেল রতনপুর ইউনিয়ন পুলিশ কমিটির সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রতনপুর ইউনিয়ন ওয়ার্ড সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল গফ্ফার বলেন, তাঁরা পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি শান্তভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের কথা না শুনে উল্টো বিভিন্ন মামলার ভয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার এসআই মতিন বিশ্বাস বলেন, রতনপুরের গড়ুইমহল এলাকার হাফিজুর রহমানের জিডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিপক্ষ তাঁকে বিপাকে ফেলতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেখান থেকে চলে আসেন বলেও জানান। গর্ভবতী নারীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা এবং তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *