লিংকন আসলাম, আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির (UzDMC) এক গুরুত্বপূর্ণ সভা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু সভাপতিত্বে মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের সহযোগিতায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Inclusive Community Resilience to Disaster and Climate Vulnerabilities (ICRDCV-III) প্রকল্প সভাটি আয়োজন ও সমন্বয়ে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
সভায় উপজেলার দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি, দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস, আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়াদান, মানবিক সহায়তা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব পিআইও আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ আলী, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সঞ্জয় কুমার রায়, উপজেলা মহিলা-বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং আশাশুনি থানাসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতাপনগর, আনুলিয়া, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ব্র্যাক, আইডিয়াল, বারসিক, রূপান্তর ও ইএসডিওসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।সভায় দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দপ্তরের প্রস্তুতির অগ্রগতি ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ও পিআইও আমিরুল ইসলাম বলেন আশাশুনি উপজেলায় বর্তমানে মোট ১১০টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ হাজার জন। গত মাসে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মনিটরিং করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগে সেবা প্রদানের জন্য সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি খাদ্যসহায়তা হিসেবে বর্তমানে ২০০ মেট্রিক টন খাদ্য বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। ইএসডিওসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় মহড়া ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধসমূহ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এসব বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।দুর্যোগ-বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, আগাম সতর্কতা কার্যকরভাবে প্রচার, আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, জরুরি উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। সভায় ইএসডিও–ICRDCV-III প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ শামসুল হক মৃধা পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদর ইউনিয়নের ২৭টি ওয়ার্ডে দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস এবং কমিউনিটি সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। সভায় সরকারি বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক সংগঠন এবং কমিউনিটি পর্যায়ের অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও এলাকা চিহ্নিতকরণ, আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়াদান এবং দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।SOD 2019-এর পরিশিষ্ট-১০-এ উপজেলা দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা (RRAP) ও আপৎকালীন পরিকল্পনা, সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, জরুরি মানবিক সহায়তা, জরুরি সেবা সচল করা এবং আগাম সংকেত, উদ্ধার, নিরাপদ স্থানান্তর, প্রাথমিক চিকিৎসা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য দল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, এনজিও ও সামাজিক সংগঠনের মোট ৪৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

