সমাজের আলো।। আমাদের একমাত্র সন্তান সঞ্জীবকে হারিয়ে আজ আমরা সম্পূর্ণ অসহায়ত্বের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছি। দশ মাস বয়সের কন্যা সন্তানকে নিয়ে নিহত ছেলের স্ত্রী পাগল প্রায়। এরই মধ্যে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামীরা মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিছে। এই অব¯’ায় পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেপ্তার না করায় ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে আমরা সন্দিহান হয়ে পড়েছি। ফলে নিহত ছেলের শিশু সন্তান ও তার বিধবা স্ত্রীকে নিয়ে চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি। সোমবার (৩ জুলাই) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত সঞ্জীব সরকারের মা কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল সরকারের স্ত্রী বৃদ্ধা মায়া রানী সরকার তার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পুত্র সঞ্জীব সরকার (৩০) জীবন জীবিকার তাগিদে তার পিতার ঘের দেখাশুনা করে। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৩০ জুন মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সে ঘেরের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। কিš‘ সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যাওয়ার পরও আর ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। কিš‘ কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ঘেরের গই থেকে সঞ্জীবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মায়া রানী সরকার বলেন, আমার স্বামীর সেজ ভাই নেপাল সরকার ও তার ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিমের সাথে আমার স্বামীর ও ছেলের দীর্ঘদিন যাবৎ মনোমালিন্য চলে আসছিল। আমার স্বামী ও ছেলের প্রত্যেক কাজে তারা হিংসা করতো। এরই জের হিসেবে গত ৩০ জুন আমার ছেলে ঘেরে গেলে তাপস/ডালিম সরকারের সহযোগিতায় কালিগঞ্জের ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের মৃত গঙ্গাধার সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার, আনন্দ সরকারের ছেলে শাওন সরকার, নেপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ও মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে নেপাল চন্দ্র সরকার মিলিত হয়ে আমার ছেলেকে ঘের হতে নিয়ে দূরবর্তী ¯’ানে নিয়ে তারা ছেলের দুই চোখে ছুরি দিয়ে খোচা মারে ও লোহার রড দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করে এবং মাথায় এমন জোরে আঘাত করে যার ফলে তার কান দিয়ে ঘিণু বের হয়ে যায়। একপর্যায় তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে যে রাতে মার্ডার হয়েছিল তার পর থেকে আনন্দ তার ছেলে শাওন সরকার ও তাপস সরকার বাড়ি ছাড়া। ইতোমধ্যে নেপাল সরকার গ্রেফতার হলে বাকী আসামীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ কোন ভাবেই তাদের গ্রেপ্তার পারছে না। হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামীরা মোবাইলে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকিÑধামকি দি”েছ। ফলে নিহত ছেলের শিশু সন্তান ও তার বিধবা স্ত্রীকে নিয়ে চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন তারা। তিনি আর যাতে কোন মায়ের কোল খালি না হয়, কোন স্ত্রী যেন অকালে বিধবা না হয় এবং কোন শিশু সন্তান যেন পিতা হারা না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া গ্রহণের পাশপাশি সঠিক তদন্ত পূর্বক ছেলে সঞ্জীব হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যব¯’া গ্রহণ করে তাদের সর্বো”চ শাস্তির দাবী জানান। এব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *