সমাজের আলো। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় তুচ্ছ লেবু চুরির অপবাদে অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ৫০ বার কান ধরে উঠবস করিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের কারণে শিশুটি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
​ঘটনাটি ঘটেছে পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের ১৩৯নং সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাসুদ রানার কিছুদিন আগেই একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম আরা খাতুন শিশুটির বিরুদ্ধে একটি লেবু চুরির অভিযোগ তোলেন। মাসুদ রানা তার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালেও শিক্ষিকা শামীম আরা তা তোয়াক্কা না করে তাকে কান ধরে ৫০ বার উঠবস করার শারীরিক শাস্তি দেন।
​অস্ত্রোপচার করা শরীরে এই ভয়াবহ ধকল সহ্য করতে না পেরে শিশুটি কান ধরে উঠবস করার একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার নাটক সাজিয়ে শিশুটিকে দ্রুত তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
​ঘটনাটি জানাজানি হতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষিকা রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে আসছেন।
​ভুক্তভোগী শিশুর স্বজন ও এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম আরা খাতুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিদ্যালয় থেকে বদলির দাবি জানিয়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *