ইয়ারব হোসেন।। লিগ্যাল এইডের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। নানা ব্যস্ততা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ভিড়ে এই মৌলিক লক্ষ্য থেকে যেন কেউ বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষিত রেখে লিগ্যাল এইডের সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে জেলার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ৯টি আইনের আওতাভুক্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বর্ধিত এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর রহমান চৌধুরী, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা. ফরহাদ জামিল, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাড. বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু, সরকারি কৌঁসুলি অসীম কুমার মণ্ডল এবং পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ আব্দুস সাত্তার।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাড. মুহা. মুনিরউদ্দিন, এনজিও প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান, মানবাধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা এবং ওসিসির পিও আব্দুল হাই সিদ্দিক’সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মুস্তাফিজুর রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিভিল জজ) লিটন দাস, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

